HomeFreelancingব্লগ থেকে টাকা আয় করার ১১ সহজ উপায় | ২০২৪ সালে ব্লগ...

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ১১ সহজ উপায় | ২০২৪ সালে ব্লগ তৈরি করে ইনকাম করুন 

5/5 - (159 votes)

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার জনপ্রিয় ১১ টি সহজ উপায় সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। আপনি যদি ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেল আপনাকে অনেক সহযোগিতা করবে। কেননা ব্লগিং কিভাবে শুরু করতে হয় ব্লগিং করে কিভাবে প্রতিমাসে ১০০ থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন আজকের আর্টিকেলে। 

পূর্বের দিনগুলোতে একজন মানুষ ব্লগিং তৈরি করেছিল তার পার্সোনাল ডায়েরী হিসেবে। অনেকে শখের ব্লগে প্রথম দিকে ব্লগিং শুরু করলেও বর্তমান সময়ে গুগল এডসেন্স এবং অন্যান্য এডওয়ার্ক সেই সাথে সিপিএ মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা নিজস্ব প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমেও ব্লগ তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন।

প্রথম দিকে যখন শখের বসে মানুষ ব্লগিং করে তখন ব্লগিং জগতকে এতটা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু যখন থেকে একটি ব্লক থেকে প্রতি মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা যায় তখন থেকে ব্লগিং সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অনেক কমপ্লিটর বেড়ে গিয়েছে। 

আবার অনেকেই google এ সার্চ করে থাকেন কিভাবে ব্লগিং শুরু করব, ব্লগিং করে কি রকম টাকা উপার্জন করা যায়, ব্লগিং ক্যারিয়ারে ভবিষ্যৎ কি, কিভাবে একটি সাধারণ ব্লগ google সহ সবার কাছে জনপ্রিয় করা যায়, এবং সেই সাথে ব্লগিং শেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের টিপস এন্ড ট্রিকস সম্পর্কে গুগলে জানার চেষ্টা করেন।

আবার অনেকে আছেন ব্লগিং শুরু করেছেন কিংবা ব্লগিং শুরু করতে যাচ্ছেন কিন্তু সঠিক কোন গাইডলাইন না থাকার অভাবে আপনি ব্লগিং ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারছেন না।

তাই আজকের এই আর্টিকেলে ব্লগিং সম্পর্কে আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেল সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়লে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন, ব্লগিং থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করবেন,  ব্লগিং ক্যারিয়ার নির্বাচন করে কিভাবে সফলতা অর্জন করবেন সেই সকল বিষয় নিয়ে সঠিক গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করব।

Table of Contents

কিভাবে ব্লগিং শুরু করতে হয়?

যারা অনলাইনে অর্থ উপার্জন করতে চাচ্ছেন, অনলাইনে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজছেন তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি মাথায় আসে তা হচ্ছে ব্লগিং থেকে অনলাইনে আয় করা। আর এজন্যই তারা নিজে নিজে প্রশ্ন করতে থাকে আমি কিভাবে ব্লগিং শুরু করতে পারি? সঠিক গাইডলাইন আমি কোথায় পাবো ?

দেখুন আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে ব্লগিং সংক্রান্ত সকল বিষয় সম্পর্কে একদম খোলামেলাভাবে বলার চেষ্টা করব, যাতে করে এই আর্টিকেল পড়ার পর অন্য কোন আর্টিকেল খোঁজার প্রয়োজন না হয়। তাই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

কিভাবে ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন তা স্টেপ বাই স্টেপ নিচে তুলে ধরা হয়েছে:

ব্লগিং নিস নির্বাচন

দেখুন আপনি অবশ্যই জানেন ব্লগিং অর্থ হচ্ছে একটি ওয়েব পেজ অথবা ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট টপিকের উপরে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্পর্কিত আর্টিকেল লেখালেখি করা। অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা হচ্ছে ব্লগিং থেকে ইনকাম করা এজন্যই আপনি গুগলে সার্চ করে আমার এই ওয়েবসাইটে এসেছেন।

এবং এখন যে আর্টিকেলটি আপনি পড়ছেন এটি মূলত ব্লগ। আর অবশ্যই অনলাইনে ইনকাম করার রিলেটেড অর্থাৎ ব্লগিং থেকে কিভাবে আয় করবেন এই রিলেটেড আর্টিকেলটি আপনি পড়ছেন এটি হচ্ছে আপনার সমস্যার সমাধানের একটি উপায়। 

একটু লক্ষ্য করুন আমার এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি ব্লগিং সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। তাই আমি বলতে পারি এটি হচ্ছে টেকনিক্যাল ব্লগ অর্থাৎ অনলাইনে ইনকাম রিলেটেড একটি ব্লগ সাইট।

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ১১ সহজ উপায়
ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ১১ সহজ উপায়

ঠিক একইভাবে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সাবজেক্ট অথবা নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার যে বিষয়ে ভালো লাগে আপনি যে বিষয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করেন সেই বিষয়ে ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন।

অনেকে আছে স্টুডেন্ট যারা এখনো পড়াশোনা করছেন তারা চাইলে পড়াশোনা রিলেটেড স্টুডেন্টদের সহযোগিতা করার জন্য একটি ব্লক সাইট তৈরি করতে পারেন যেখানে পড়াশোনারত অবস্থায় অনেক স্টুডেন্টদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাদ্য সম্পর্কে আর্টিকেল হিসেবে তথ্য দেয়া থাকবে এবং ওই সকল স্টুডেন্ট আপনার ব্লগ সাইটে এসে সে সকল তথ্য এবং তথ্য গ্রহণ করতে পারবে।

অথবা আপনি যদি একজন medicalist হন, তবে আপনি হেলথ রিলেটেড একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে সেখানে সর্বসাধারণের স্বাস্থ্যবিধির সচেতনামূলক বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল পাবলিশ করতে পারেন।

অর্থাৎ আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, যে বিষয়ে ভালো বুঝেন, যে বিষয় নিয়ে লেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে বা লিখতে পারবেন প্রথম দিকে সে বিষয়ের উপর বা সেই টপিকের উপর ফোকাস করে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে অনলাইনে ইনকাম করার যাত্রা শুরু করতে পারেন।

জনপ্রিয় বাংলা ব্লগিং নিস

অনেকে হয়তো আছে যারা কোন পেশা বা কোন কর্মের সাথে লিপ্ত নয় তারা চাইলেই যে কোন আইডিয়া তৈরি করতে পারছে না তাদের জন্য জনপ্রিয় কিছু বাংলা ব্লগিং নিস আমি এখানে উল্লেখ করেছি। আর্টিকেলের এই সেকশনে বাংলা ব্লগিং নিস সম্পর্কে ধারণা দেয়া হলো:

  • টেকনোলজি নিশ
  • অনলাইন আর্নিং ব্লগ নিশ
  • EDUCATION & Learning ব্লগ
  • ব্লগিং নিস ( Blogging Niche )
  • Personal Finance ব্লগ
  • HOW TO Blog Niche
  • ব্লগ টপিক – রিভিউ নিস
  • স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ব্লগ নিশ
  • মোটিভেশনাল ব্লগ নিশ
  • শিশু পরিচর্যা ভিত্তিক ব্লগ নিস
  • লাইফ স্টাইল ব্লগ niche
  • খাবার এবং রেসিপি ব্লগ
  • ট্যুর ও ট্রাভেল ব্লগ নিস
  • বিউটি টিপস ব্লগিং নিশ
  • স্পোর্টস  ব্লগিং নিশ
  • কৃষি ব্লগ
  • সেলিব্রেটি গসিপ বায়োগ্রাফি ব্লগ
  • ডাউনলোডিং ব্লগ

এগুলো ছাড়াও আরো অনেকগুলো টপিক বা ব্লগিং নিস রয়েছে যেগুলো নিয়ে ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যেহেতু প্রথমদিকে ব্লগিং সম্পর্কে এক্সপার্ট নন তাই আমি আপনাকে রিকোয়ারমেন্ট করব আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে ভালো রিসার্চ করতে পারবেন ভালোভাবে লিখতে পারবেন সে বিষয়ে বা টপিক নির্বাচন করে ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

যদি আমি সবগুলো টপিক বা ব্লগিং নিস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই তাহলে আর্টিকেল অনেক বড় হয়ে যাবে এবং আপনার পড়ার ধৈর্য ক্ষমতা থাকবে না তাই আমি শুধুমাত্র দেখাবো ব্লগিং কি? ব্লগিং কিভাবে কাজ করে ব্লগিং থেকে আপনি কিভাবে অর্ধ উপার্জন করবেন।

ব্লগিং নিস নির্বাচন করার জন্য আমার একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল রয়েছে আপনি চাইলে আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে সেটি পড়ে নিতে পারেন। ব্লগিং সম্পর্কে আমাদের সাধারণ জ্ঞান অর্জন হয়ে গেছে এখন প্রশ্ন হল ব্লগিং থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করব।

তাই আর্টিকেলের এই সেকশনে আমি আপনাদের দেখাতে চলেছি ব্লগ সাইট থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সে সম্পর্কে।

আজকে এই আর্টিকেলে জনপ্রিয় ১১ টি উপায় সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব যে সকল উপায় অবলম্বন করে আপনি আপনার ব্লগ সাইট থেকে প্রতি মাসে কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার ডলার আয় করতে পারবেন। 

কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা আয় করা যায়?

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার প্রধান উৎস হচ্ছে ব্লগ সাইটের ট্রাফিক। এখানে ট্রাফিক বলতে ব্লগের ভিজিটর বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে গুগলে যেসব কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করি এবং যে সকল ওয়েবসাইট আসে আমরা যে ওয়েবসাইটগুলোতে ভিজিট করি আমরাই হচ্ছি ওই সকল ব্লগের ট্রাফিক বা ভিজিটর।

অর্থাৎ আপনি ব্লগিং থেকে কিভাবে আয় করা যায় তা সম্পর্কে গুগলের সার্চ করে আমার এই ওয়েবসাইটে চলে এসেছেন তো সে ক্ষেত্রে আপনি আমার ব্লগের একজন ট্রাফিক অথবা ভিজিটর। আশা করছি ট্রাফিক অথবা ভিজিটর কাকে বলে তা সম্পর্কে আপনি সঠিক ধারণা পেয়ে গেছেন।

আমি যদি আরও সহজ ভাবে বলি তাহলে ধরুন আপনি একটি দোকান দিয়েছেন সেই দোকান সম্পর্কে যদি কাস্টমার না জানে সেই দোকানে যদি কাস্টমার না আসে তাহলে আপনার দোকানের পণ্য বিক্রি হবে না আপনার ইনকাম হবে না এটাই স্বাভাবিক।

তাই আপনি যদি ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ব্লগ সাইটে ভিজিটর থাকতে হবে। তা না হলে আপনি ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন না।

অনেকেই চিন্তা করে যে আমি নতুন ব্লগ তৈরি করেছি আমার ব্লগ সাইটে কিভাবে ট্রাফিক আসবে বা কিভাবে ভিজিটর আসবে।

দেখুন একটি ব্লগে ট্রাফিক আসে সেই ব্লগের আর্টিকেলের উপরে ভিত্তি করে। এর জন্য আপনার ব্লগ সাইট গুগল সার্চ কনসোলে সাবমিট করতে হবে সেই সাথে আর্টিকেল এসইও করতে হয় ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ এসইও করতে হয় পাশাপাশি আপনি যে আর্টিকেল লিখছেন তা সম্পর্কে অনলাইনে মানুষের চাহিদা থাকতে হবে।

মানুষ যে সকল কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ করে ওই সমস্ত কিওয়ার্ড সম্বলিত যদি কোন আর্টিকেল আপনার ব্লগ সাইটে থাকে আর যদি গুগল আপনার ব্লগ সাইট রিকমেন্ডেশন করে তাহলে অবশ্যই আপনার ব্লগ সাইটের ট্রাফিক আসবে আর আপনার ইনকাম জেনারেট হবে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মানুষের চাহিদা আছে এরকম বিষয়ের উপর নির্ভর করে আর্টিকেল লিখতে হবে। তাহলেই আপনার ব্লগ সাইটে ট্রাফিক আসার সম্ভাবনা থাকবে।

আর তাই কীওয়ার্ড রিসার্চ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়, কোন কিওয়ার্ড নিয়ে আপনি কাজ করবেন, বর্তমান সময়ে কোন কিওয়ার্ড কি রকম ডিমান্ডেবল রয়েছে তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব পরবর্তী আর্টিকেলে। 

চলুন তাহলে ব্লগ থেকে টাকা আয় করার সহজ ১১ টি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করি

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ১১ টি সহজ উপায়

অনলাইন সেক্টরে যারা নতুন তাদের মধ্যে অনেকেই জানে না ব্লগ থেকে টাকা আয় করার অনেকগুলো উপায় রয়েছে। তবে যারা টেকনোলজি নিস বা টপিক নিয়ে ব্লগিং করছে অন্যান্য ব্লগারদের তুলনায় তাদের ইনকাম তুলনামূলকভাবে বেশি। নতুন অথবা এক্সপার্ট ব্লগার হিসেবে আপনি যে সকল উপায়ে একটি ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: 

অ্যাড/বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে আয়

ব্লগিং থেকে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক অর্থাৎ এডভার্টাইজমেন্ট নেটওয়ার্ক। কেননা আমার পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি আপনাকে বলতে পারি একটি ব্লগ থেকে টাকা আয় করার অন্যতম সহজ এবং জনপ্রিয় সেই সাথে বিশ্বস্ত উপায় হচ্ছে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা।

আমরা সকলেই জানি ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জন হচ্ছে একটি প্যাসেভ ইনকাম প্রক্রিয়া। যেখানে আপনি একটি আর্টিকেল একবার লিখে রাখলে সেই আর্টিকেল যতদিন মানুষ পড়বে অথবা ভিজিট করবে যদি সেখানে বিজ্ঞাপন চালু থাকে তাহলে আপনি শুয়ে শুয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

এক কথায় বলা যায় আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন একটি ব্লগ সাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে।

এগুলো পড়তে পারেন,

আপনি দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে হয়তো গুগলে আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করেন। এরপর আপনি একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আর্টিকেলের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞাপন দেখতে পান। ওই সকল বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে একজন ব্লগের মালিক অর্থ উপার্জন করে থাকে।

আর যদি কোন ভিজিটর সে সকল বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলে ক্লিক করার কারণে ওই ব্লগের মালিক আরো বেশি অর্থ উপার্জন করে থাকে। অনেকেই জানতে চায় ব্লগে এডভার্টাইজমেন্ট দেখানোর মতো বিশ্বস্ত এবং

জনপ্রিয় অ্যাড নেটওয়ার্ক গুলো কি? কি?

বিশ্বস্ত এবং জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্কগুলো হলো:

  • Google Adsense
  • Ezoic.com
  • Media.net

গুগল অ্যাডসেন্স: অনলাইন জগতে যতগুলো বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক রয়েছে তার মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাড নেটওয়ার্ক হচ্ছে গুগল অ্যাডসেন্স। আমাদের দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্লগার google এডসেন্স থেকে অর্থ উপার্জন করে থাকে।

তবে গুগল এডসেন্স এর টার্মস এন্ড কন্ডিশন অনুসরণ করে আপনি আপনার ব্লগসাইটে গুগল এডসেন্স অ‍্যাপ্রুভাল এর জন্য আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সকল ধরনের অবৈধ কাজ যেমন, কপি কনটেন্ট, ভায়োলেশন কনটেন্ট, রক্ত, খুন, ছুরি, বা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে যে সকল বিষয়বস্তুকে চিহ্নিত করা হয় সে সকল বিষয়বস্তু আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে থাকা যাবে না।

আপনি যদি গুগলের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে আপনার ব্লগ সাইট পরিচালনা করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই গুগল এডসেন্স আবেদন করার পর এপ্রুভাল নিয়ে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 

Ezoic: ইজয়ক হলো একটি এমন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যা গুগল এডসেন্স এর অল্টারনেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদি আপনার কনটেন্ট কোয়ালিটি ভালো হয় এবং প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১০ হাজার ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি অথবা google adsense approval না পেলে Ezoic এ আবেদন করতে পারেন।

অনেকেই বলে গুগল এডসেন্স এর থেকে একটু হলেও Ezoic অ্যাড নেটওয়ার্ক থেকে বেশি আয় করা যায়। তবে আমি এখন পর্যন্ত Ezoic অ্যাড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করিনি তাই পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে পারছি না। ভবিষ্যতে যদি আমি ইনজয়িক ব্যবহার করি তাহলে অবশ্যই আপনাকে আমার মতামত জানাবো।

Media.net: অনেক ব্লগার বলে এই বিজ্ঞাপননেটওয়ার্ক Google Adsense এর থেকে কিছুটা বেশি প্রফিট প্রদান করে। তবে Media.net এবং Ezoic অ্যাড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হলে আপনার ব্লগে অবশ্যই প্রতি মাসে সর্বনিম্ন দশ হাজার ভিজিটর বা ট্রাফিক থাকতে হবে।

এছাড়াও একটি ব্লগ সাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়া আয় করার জন্য আরও অসংখ্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক তথা অ্যাড নেটওয়ার্ক রয়েছে। আপনি চাইলে আমাদের পরবর্তী আর্টিকেলে সে সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা জানতে পারবেন অথবা গুগলে সার্চ করেও জেনে নিতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একটি ব্লগ থেকে আয় করার পাশাপাশি এফফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার ব্যাপারটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের দেশ সহ পুরো পৃথিবীতে অসংখ্য ব্লগার রয়েছে, যারা শুধুমাত্র অ্যামাজন, আলীবাবা, Ebay এসব ই-কমার্স সাইটে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে সেখানকার প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ ডলার পর্যন্ত ব্লগ থেকে টাকা আয় করছেন।

ব্লগ থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
ব্লগ থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

আপনার ব্লগ সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে অ্যাফিলেট মার্কেটিং করে আয় করতে হলে গুগল এডসেন্স অথবা অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন না বিষয়টি এমন নয়। আপনি চাইলে গুগল এডসেন্স অথবা অন্যান্য এড নেটওয়ার্কের পাশাপাশি আপনার ব্লগ সাইটে এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে তার মাধ্যমে করতে পারবেন। 

তবে আপনার ব্লগ সাইট যদি বাংলা কনটেন্ট এর হয়ে থাকে তাহলে আপনি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে খুব সীমিত পরিসরে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যদি আপনার মূল টার্গেট থাকে মার্কেটিং করে ব্লগ সাইট থেকে আয় করবেন তবে আপনি অবশ্যই ইংরেজিতে ব্লগিং শুরু করুন।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে ব্লগ থেকে টাকা আয়

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ফিজিক্যাল পণ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রোডাক্টের অভাব নেই। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার ব্লগ সাইটে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। আর্টিকেলের এই সেকশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর তালিকা দেওয়া হলো:

  • রেডিমেট ওয়েবসাইট
  • ওয়ার্ডপ্রেস থিমস, প্লাগিন, ব্লগ থিম/টেমপ্লট
  • ই-বুক/ পিডিএফ
  • সফটওয়্যার ও গেমস
  • ভিডিও টিউটোরিয়াল
  • অনলাইন সার্ভিস
  • Expire ডোমেইন, ইত্যাদি 

অনলাইন কোর্স তৈরি করে ব্লগ থেকে আয়

বর্তমানে চাকরির বাজারে অনেক কম্পিডিটর। তাই অনলাইন হউক অথবা অফলাইন দক্ষতা অর্জন করার কোন বিকল্প নেই। আপনার যদি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভালো দক্ষতা থাকে তাহলে যে কোন সেক্টরেই নিজেকে তৈরি করে নিতে পারেন।

অনলাইন কোর্স তৈরি করে ব্লগ থেকে আয়
অনলাইন কোর্স তৈরি করে ব্লগ থেকে টাকা আয়

আপনি যে টপিক বা বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করেছেন আপনার সেই পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স এবং বিষয়বস্তুগুলো সফট কপির মাধ্যমে কোর্স তৈরি করে বিক্রয় করার জন্য আপনার ব্লগ সাইট ব্যবহার করতে পারেন।

ধরুন আমি ব্লগিং জগতে এক্সপার্ট। যদি আমার কোর্স ফি মাত্র ৫০০ টাকা হয় আর যদি আমার স্টুডেন্ট প্রতিমাসে ৫০ জন থাকে তাহলে আমি প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকার মত কোর্স বিক্রি করতে পারব আমার এই ব্লগ সাইটে।

এরকমভাবে নানা পেশার নানা দক্ষতার মানুষ রয়েছে তারা চাইলেই তাদের সেই দক্ষতা গুলো কোর্স আকারে একটি ব্লগ সাইটে বিক্রয় করতে পারেন। বর্তমান সময়ে ফেসবুক অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কিংবা গুগলে এ ধরনের অনেক বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায় যেখানে অনেক ব্লগার কেবলমাত্র কোর্স বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করছেন।

ইন্টারনেট ভিত্তিক জনপ্রিয় কিছু অনলাইন কোর্স আইডিয়া:

  • এসইও এক্সপার্ট
  • ইংলিশ লার্নিং সিস্টেম
  • কম্পিউটার ব্যাসিক নলেজ
  • ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টর
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ভিডিও এডিটিং
  • ওয়ার্ডপ্রেস ডেভলপার
  • ওয়েব ভেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডিজাইন, ইত্যাদি।

এখানে কয়েকটি মাত্র অনলাইন কোর্স আইডিয়া উল্লেখ করেছি এছাড়াও অসংখ্য অনলাইন কোর্স ক্যাটাগরি রয়েছে। আপনি আপনার ব্লগে কি ধরনের কোর্স বিক্রয় করবেন তা নির্ভর করবে আপনার নিজের দক্ষতার উপর।

একজন মানুষ মায়ের পেট থেকে সবকিছু শিখে জন্ম নেয় না, বরং পৃথিবীতে আসার পর নিজের ইচ্ছায় অনেক কিছু শিখে নেয়। যদি আপনার কোন স্কিল বা দক্ষতা না থাকে তাহলে আপনি যে কোন প্রতিষ্ঠানে এডমিশন নিয়ে যেকোনো একটি অথবা তথাকথিক বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে তা পরবর্তীতে আপনার দক্ষতা গুলো অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারেন। 

তবে হ্যাঁ দুর্বল দক্ষতা এবং এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে কখনোই অনলাইন কোর্স তৈরি করতে যাবেন না এক্ষেত্রে মানুষের নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে এবং অপমান হতে হবে। ওদের তার চেয়ে ভালো আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিপিএ মার্কেটিং এবং বিভিন্ন ধরনের এড নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে ব্লগ সাইট থেকে আয় করতে পারেন।

স্পনসরশিপ অথবা লোকাল বিজ্ঞাপন থেকে আয়

ব্লগার থেকে আয় করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে স্পনসরশিপ অর্থাৎ আমরা যেটাকে লোকাল বিজ্ঞাপন বলি। বিভিন্ন কোম্পানি রয়েছে যারা প্রিন্ট মিডিয়া অথবা অনলাইনে যে সকল ব্লগ চলে সেখানে তাদের ব্যবসা অথবা কোম্পানি সম্পর্কে প্রচার প্রসারণা চালানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

তবে লোকাল বিজ্ঞাপন পেতে হলে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হবে এবং সেইসাথে প্রচুর পরিমাণে ভেজিটর থাকতে হবে। তাহলে আপনি লোকাল বিজ্ঞাপন বা স্পন্সরশিপ নিয়ে ব্লগ থেকে অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্ক এর তুলনায় অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।

গেস্ট ব্লগিং থেকে আয়

যারা নতুন তারা হয়তো এই বিষয়টি বুঝবেন না কিন্তু যারা ব্লগিং সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা রাখেন তারা এই বিষয়টি অবশ্যই বুঝবেন। একজন নতুন ব্লগার তার ওয়েবসাইটের ডোমেন অথরিটি এবং ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য গেস্ট ব্লগিং  করার জন্য ব্লগ সাইট খুঁজে থাকে।

যদি আপনি আপনার ব্লগে ওই সকল নতুন ব্লগারদের লেখার সুযোগ তৈরি করে দেন তাহলে তারা তাদের ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক নেয়ার জন্য আপনার ব্লগ সাইটে আর্টিকেল লিখে দিবে এবং প্রত্যেকটি আর্টিকেল লেখার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। 

গেস্ট ব্লগিং থেকে আয় করার সুবিধা। 

  • আপনার কষ্ট করে আর্টিকেল লিখতে হবে না।
  • টাকা উপার্জন করবেন এবং আপনি ভিজিটরও পেয়ে যাবেন।

যেহেতু একটি নতুন ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিঙ্ক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি যদি অনেক হাই হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার সাইটে গেস্ট ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনেক ভালো টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

পেইড রিভিউ লিখে ব্লগ থেকে আয়

আমি আগেই বলেছি যদি আপনি টেকনোলজি নিস, রিভিউ নিস নিয়ে ব্লগ শুরু করেন তাহলে রিভিউ লিখে আয় করার ব্যাপারটি আপনার সাথে বেশ যথা উপযুক্ত। অনেকেই ফেসবুক অথবা অনলাইনে শপ তৈরি করে কিংবা কেউ তার একটা সার্ভিস সম্পর্কে আপনার ব্লগে রিভিউ লেখার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।

কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে করে আপনি যে কোম্পানি বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ দিবেন তা সম্পর্কে আপনার ব্লগের ভিজিটর যেন কোন ধরনের কমপ্লেন না থাকে। যদি আপনার দেয়া review product অথবা service কাস্টমারের ভালো না লাগে তাহলে আপনি আপনার ব্লগে ভিজিটর হারাতে পারেন। সো বি কেয়ারফুল।

অনলাইন সার্ভিস সেল করে আয় 

আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে বর্তমান সময়ে অনেক কম্পিটিটর হয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোর বাইরেও নিজেদের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ সাইটে তাদের অনলাইন সার্ভিস সেল করে আয় করছে।

যেমন ধরুন, “সবারটেক” নামে একটি ব্লগ সাইট রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের এসইও আর্টিকেল বিক্রয়ের পাশাপাশি গুগল এডসেন্স, প্রফেশনাল ব্লগ সাইট ডিজাইন, ওয়েবসাইট এসিও এন্ড অপ্টিমাইজেশন সার্ভিস, ফেসবুক মনিটাইজেশন সার্ভিস সেল করে ব্লগিং থেকে আয় করছে।

পেইড নিউজ/আর্টিকেল 

আপনি হয়তো অনলাইন প্রথম আলো পত্রিকা দেখেছেন এবং পড়েছেন। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন তাদের বেড মেম্বারশিপ রয়েছে। জি বন্ধুগণ আপনি চাইলে আপনার ব্লগ সাইটে পেইড আর্টিকেল অথবা পেইড পোস্ট নামে একটি অপশন রেখে দিতে পারেন যেখানে ভিজিটররা এসে সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সেই আর্টিকেল পড়তে পারবে।

আপনি হয়তো ক্রিকেট বিষয়ে লাইভ স্ট্যাটাস পেতে অবশ্যই Cricbuzz ব্লগ ভিজিট করেছেন। খেয়াল করলেই দেখবেন সেখানেও কিছু আর্টিকেল এবং ভিডিও রয়েছে যেগুলো দেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।

আপনি যদি ব্লগিং ক্যারিয়ারে অনেক দক্ষ এবং এক্সপার্ট একজন ব্যক্তি হয়ে থাকেন,  সেটা যে কোন বিষয়ের উপরেই হোক না কেন,  আপনার লেখার যদি চাহিদা থাকে অথবা আপনি এমন কিছু প্রোভাইড করছেন যা অন্য কোথাও নেই।  তাহলে সেই আর্টিকেল পেইড করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাবস্ক্রিপশন রেট চালু করে ব্লগ অথবা ওয়েব সাইটে মেম্বারশিপ দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

ব্লগে অনলাইন শপ

যখন আপনার ব্লগ সাইট অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে তখন আপনার ব্লগিং নিস বা ব্লগিং ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে উক্ত ব্লগে অনলাইন শপ তৈরি করতে পারবেন। উদাহরণস্বর বাংলাদেশে এমনই একটি ব্লগ হচ্ছে shajgoj ব্লগ সাইট। শুরুর দিকে মূলত এটি একটি বিউটি টিপস ব্লগ থাকলেও এখন সেটি অনলাইন শপে রূপান্তর নিয়েছে। যার ফলে ব্লগিং থেকে অন্যান্য উপায় অবলম্বন করে অর্থ উপার্জন করার পাশাপাশি তারা তাদের ব্লগে অনলাইন সব চালু করে দ্বিগুণ পরিমাণে ইনকাম করছে।

আপনি চাইলে আজকেই একটি নতুন ব্লগ সাইট তৈরি করে শুরু করে দিতে পারেন আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার। এবং যখন আপনার এই ব্লগ সাইট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তখন চাইলেই আপনি সেটিকে অনলাইন শপে রূপান্তর করে অথবা ব্লগিংয়ের পাশাপাশি আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। 

ব্লগিং শেখার জন্য কিছু ফ্রি রিসোর্স

  1. WordPress.com
  2. shobartech.com
  3. Blogger
  4. wpbeginner.com

ব্লগ থেকে ইনকাম করতে কত সময় লাগে?

আমরা জানি যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে ইংরেজি তাই যদি আপনি ব্লগিং থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে অবশ্যই ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপর ব্লক তৈরি করার জন্য আমি আপনাকে রিকমেন্ডেশন করব। কেননা যেহেতু ব্লগিং থেকে আয় করার প্রথম ধাপ হচ্ছে এড নেটওয়ার্ক অথবা google adsense।

যদি আপনি প্রথম দিকে ইংরেজি কনটেন্ট নিয়ে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন তাহলে খুব দ্রুত বাংলা কনটেন্ট এর তুলনায় ইংরেজি কনটেন্টে গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাবেন।

অনেক সময় দেখা যায় বাংলা কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করেও google এডসেন্স খুব দ্রুত পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনার কনটেন্ট এর কোয়ালিটি এবং আপনার রাইটিং স্কিল এর উপর বিষয়টি নির্ভর করে।

তবে যেহেতু গুগল এডসেন্স একাউন্টে ১০০ ডলার পূরণ না হলে আপনি টাকা উঠাতে পারবেন না সে ক্ষেত্রে আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিজিটর আসে তাহলে আপনার প্রথম মাস থেকেই আয় শুরু হতে পারে।

তবে সাধারণভাবে বলা যায় যদি আপনার ব্লগ সেটে ১০ থেকে ২০ হাজার ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার সিপিসি এবং ক্লিক রেট যদি ভালো থাকে তাহলে।

তবে প্রতি মাসে যদি আপনার ব্লগ সাইটে এক লক্ষ বা তার অধিক ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি অনায়াসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা সিপিএ মার্কেটিং করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

তবে যদি আপনার ব্লগে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাফিক আসে অর্থাৎ ইউকে, ইউএস কানাডা, জার্মানি ইত্যাদি কান্ট্রি থেকে আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসলে আপনারায়ের পরিমাণ ১০  গুন বৃদ্ধি হবে। তাই আপনি ডিসিশন নেন আপনি বাংলায় আর্টিকেল লিখবেন নাকি ইংরেজিতে আর্টিকেল লিখবেন।

ব্লগ থেকে প্রতিমাসে কত টাকা আয় করা যায়?

ব্লগ থেকে ইনকাম করার প্রথম শর্ত ছিল ভিজিটর। তবে একজন ব্লগার তার ওয়েবসাইট থেকে প্রতিমাসে কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপরে যেমন;

  • ব্লগ ল্যাঙ্গুয়েজ
  • ব্লগ টপিক
  • ট্রাফিক সোর্স

অনেকগুলো গবেষণায় দেখা যায় বাংলায় একটি জনপ্রিয় ব্লগ প্রতিমাসে শুধুমাত্র গুগল এডসেন্স অথবা অন্যান্য অ্যাডনেটওয়ার্ক থেকে যদি ৫০০ ডলার আয় করে, এর বিপরীতে একই ধরনের একটি ইংরেজি ব্লগ প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ৫০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে।

এর কারণ হলো বাংলাদেশের সিপিসি কম থাকার কারণে গুগল এডসেন্স থেকে আয়ের পরিমাণ অনেক কম হয়। আপনাদের সকলের উদ্দেশ্যে জানানোর চেষ্টা করছি যে, বর্তমান বাংলায় গড় সিপিসি হল ০.০৩-.০৪ ডলার, এর বিপরীতে ইংলিশ আর্টিকেলে সর্বোচ্চ ৭৫০ ডলারও পাওয়া সম্ভব শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার জন্য।

একটি বাংলা ব্লগ সাইটে সিপিসি কিরকম থাকবে তা নির্ভর করে ওই ব্লগের টপিক এবং কনটেন্ট এর উপর। তাই ব্লগিং শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে ব্লগিং টপিক অথবা ব্লগিং নিস সম্পর্কে ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে জ্ঞান অর্জন করা দরকার।

Homepage shobarjobs.com
Category Technology
Last Update Just Now
Written by Ashraful Islam

উপসংহার

বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে, কিভাবে ব্লগ শুরু করবেন, কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা আয় করা যায়,  ব্লগিং করে প্রতিমাসে কত টাকা আয় করা যায় তার সম্পর্কে সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি ব্লগিং থেকে আয় করার সকল বিষয় সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন।

তবে ব্লগিং থেকে আয় করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে এবং ধীরে ধীরে ব্লগ থেকে টাকা আয় কিভাবে করতে হয় তার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন শিক্ষার কোন শেষ নেই।

যদিও আমি আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে আজকের এই আর্টিকেল লিখেছি, তারপরও আমি আপনাকে বলি আমি ব্লগিং রিলেটেড বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে এখনো শিখছি। 

ব্লগিং থেকে আয় করা রিলেটেড আরো যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Updated

Recent